মানুষ
বরাবরই সুন্দরের পূজারি। সৌন্দর্যের চর্চার কারণে আজ আমাদের মানব সভ্যতা এতটা
উন্নতি লাভ করেছে। আমরা সবসময়ই চারদিকে সুন্দর জিনিস খুজি। সেটা যেকোনো কিছুই হতে
পারে। হতে পারে সেটা প্রকৃতি, মানুষ কিংবা কোনো স্থাপত্য অথবা যেকোনো কিছু। তেমনি
বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের মাঝে স্থান পাওয়া অন্যতম অসাধারণ এক স্থাপত্য হলো “তাজমহল”।
আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের এই অসাধারণ স্থাপত্য সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? চলুন
জেনে নেওয়া যাক এই অসাধারণ স্থাপত্য সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।
![]() |
| Beautiful Taj Mahal
Photo by Varshesh Joshi on Unsplash
|
বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর স্থাপনা এই তাজমহল ভারতের
আগ্রায় অবস্থিত। এই অপূরব রাজকীয় সমাধী টি মূলত মুঘল সম্রাট শাহ জাহান তার স্ত্রী
বেগম আরজুমান্দ বানু যিনি মমতাজ নামে খ্যাত, তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মাণ
করেছিলেন। এই স্মৃতি সৌধটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিলো ১৬৩২ খ্রিস্টাব্দে এবং দীর্ঘ
১৬ বছর সময় লেগেছিল নির্মাণ কাজ শেষ হতে। ১৬৪৮ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত
হয়। ওস্তাদ আহমেদ লাহরীর সঙ্গে একদল অসাধারণ নিপুণ শিল্পী ও নকশাকার ও কারিগর মিলে
সৌধটি নির্মাণ করেছিলেন। কথিত আছে, এই অসম্ভব সুন্দর স্থাপনার কাজ যারা করেছিলেন
তাদের সবার হাত কেটে নেওয়া হয়েছিল যাতে তারা আর কখনো এমন সুন্দর স্থাপনা করতে না
পারে। যাইহোক, একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, মুঘল স্থাপত্যশৈলীর সবচেয়ে আকর্ষণীয়
স্থাপনাই হলো তাজমহল। এই স্থাপত্য শিল্পটিতে একই সাথে তুরস্ক, পারস্য, ভারতীয় এবং
ইসলামিক শিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। মমতাজের মৃত্যুর পরেই এই তাজমহলের নির্মাণ
কাজ আরম্ভ করা হয়। মূল সমাধীর নির্মাণ কাজ ১৬৪৮ সালে সম্পন্ন হয় আর এর চারদিকের বাগান
আর অন্যান্য ইমারত সমূহ আরও পরে তৈরি করা হয়েছিল। সাদা মার্বেলের গম্বুজাকৃতির
রাজকীয় সমাধীটি এই সৌধের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং সমাদৃত।
![]() |
Taj Mahal's Photo by Fahrul Azmi on Unsplash
|
তাজমহল
বিভিন্ন ঐতিহাসিক নকশা, বিশেষ করে পারস্য এবং অন্যান্য মুঘল স্থাপত্য শিল্পের উপর
ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে। যেমন এর বিশেষ কিছু নকশা মুঘল ও তিমুর ইমারতের মতো
একেবারে হুবহু করা হয়েছে। এর মধ্যে তিমুরের গুর-ই-আমির, মুঘল সম্রাজ্যের পূর্ব
সম্রাট হুমায়ুনের মাজার, দিল্লিতে শাহজাহানের নিজের তৈরি দিল্লি জামে মসজিদের নকশা
অন্যতম। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয়, এর আগের সব মুঘল স্থাপত্য সমূহ লাল বেলে
পাথরে তৈরি করা হয়েছিল কিন্তু তাজমহলের ক্ষেত্রে শাহজাহান তৈরি করেছিলেন সাদা
অত্যন্ত দামি মার্বেল পাথর দিয়ে। তাজমহলের সামনে একটি বড় বাগান রয়েছেযার প্রতি
চতুর্থাংশ উচু পথ ব্যবহার করে এর ভাগ গুলোকে ১৬ টি ফুলের বাগানে বিভক্ত করা হয়েছে।
মাজারের অংশে এবং দরজার মাঝামাঝি অংশে ও বাগানের মধ্যিখানে উচু মার্বেল পাথরের
চৌবাচ্চা বসানো আছে। উত্তর দক্ষিণ অংশে একটি সরল রৈখিক চৌবাচ্চা আছে যাতে তাজমহলের
প্রতিফলন পড়ে তাজমহলকে আরও বেশি মোহনীয় করে তুলেছে। তাজমহলের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য
এবং জ্যামিতিক ইটের রেখার ফুলের বিছানা একেবারে হুবহু শালিমারের মতো। এগুলো সবই
একই প্রকৌশলী নকশা করেছিলেন। আর তিনি হলেন আলি মারদান। কি অসাধারণ নির্মাণ টাই না
করেছিলেন। আজ থেকে কয়েকশো বছর আগে শাহজাহান তার বেগম মমতাজের জন্য যে সৌধ নির্মাণ
করেছিলেন তা আজও সগৌরবে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এই তাজমহলে এমন অনেক কিছুই আছে
যা লিখতে গেলে হয়তো পুর দিনটায় পার হয়ে যাবে। শোনা যায় যে, শাহজাহান এই নির্মাণ
করতে গিয়ে তার রাজকোষের অর্থ প্রায় শেষ করে ফেলেছিলেন। মুঘল রা কতো টা সৌখিন রুচির
ছিলেন তা তাদের খাবার দাবার, আর স্থাপত্য দেখলেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়। কতোটা
ভালবাসলে এমন একটা সৌধ তৈরি করা যায় তা বার বার মনকে ভাবিয়ে তোলে। ভালোবাসার এই
অপূর্ব নিদর্শন যুগ যুগ ধরে আজও বিশ্বের সবচেয়ে সুব্দর স্থাপনা হিসেবে স্থান দখল
করে আছে।




3 Comments
জানার আছে অনেক কিছুই
ReplyDeleteGreat...!!
ReplyDeleteFine..
ReplyDelete