জেনে নিন, নিয়মিত কচুশাক খেলে শরীরে কি কি উপকার হয়

কচুশাক আমাদের দেশের খুব কমন একটা খাবার।  আমাদের দেশে গ্রাম অঞ্চলে যেখানে সেখানেই এই কচুশাক পাওয়া যায়।  তাই আমদের অনেকেই এই কচুশাকের তেমন গুরুত্ব দিতে চান না।  আমরা এই কচুশাক বিভিন্ন ভাবেই খেয়ে থাকি।  অনেকেই অনেক ভাবে খেতে পছন্দ করি।  কেউ কেউ কচুশাক ভর্তা করে, আবার কেও কেও তরকারি হিসেবেও আমরা খেয়ে থাকি।  শুটকি মাছা, ইলিশ কিংবা ছোট মাছ দিয়ে এই কচুশাক কতটা মজাদার এবং সুস্বাদু এবং মজাদার তা আমরা প্রায় সবাই জানি।  আমার খুবই প্রিয় এই কচুশাক। তবে আমরা অনেকেই জানি না এই কচুশাকে কি কি পুষ্টিগুণ আছে এবং এটা খেলে কি কি উপকার হতে পারে।  কচুশাক খুবই পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটা খাবার, যা সাধারণত আমাদের শরীরের “এ” ভিটামিনের অভাব দূর করে।  যাদের কোষ্ঠ্যকাঠিন্য আছে তারা কচুশাক খেতে পারেন।  কারণ এই কচুশাক আমাদের খাবার হজম করতে সাহায্য করে থাকে।  আমাদের শরীরে রক্তে যখন হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বেড়ে যায় তখন ডাক্তারের কাছে গেলে আমাদেরকে এই কচুশাক খাওার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।  তো চলুন দেখা যাক, এই কচুশাক আমাদের শরীরে কি কি পুষ্টিগুণ কি পরিমাণে আছে  

কচুশাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন “এ”, ভিটামিন “বি”, ভিটামিন “সি”, ক্যালসিয়াম, লৌহ, খনিজ লবণ সহ আরও অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক প্রয়োজনীয়।  প্রতি ১০০ গ্রাম সবুজ কচুশাকে ১০২৭৮ মাইক্রোগ্রাম ও কালো কচুশাকে ১২০০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন আছে যা আমাদের শরীরে ভিটামিন “এ” এর যোগান দেয়। 
সবুজ কচুশাকে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে যেমন- প্রতি ১০০ গ্রামে ৩.৯ গ্রাম প্রোটিন, ১.৫ গ্রাম স্নেহ, ৬.৮ গ্রাম শর্করা, ক্যালসিয়াম আছে ২২৭ মি.গ্রা., লৌহ আছে ১০ মি.গ্রা., ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন) আছে ০.২২ মি.গ্রা., ভিটামিন বি-২ (রাইবোফেবিন) রয়েছে ০.২৬ মি.গ্রা., ভিটামিন-সি রয়েছে ১২ মি.গ্রা. এবং আরও রয়েছে ৫৬ কিলোক্যালোরি খাদ্যশক্তি যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আবার কালো কচুশাকে কিন্তু সবুজ কচুশাকের তুলনায় আরও বেশি পুষ্টিগুণ রয়েছে।  যেমন – কালো কচুশাকের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ গ্রামে প্রোটিন রয়েছে ৬.৮ গ্রাম, শর্করা আছে ৮.১ গ্রাম, চর্বি আছে ২.০ গ্রাম, ৪৬০ মি.গ্রা. পরিমাণ ক্যালসিয়াম, লৌহ আছে প্রায় ৩৮.৭ মি.গ্রা. এর মতো, ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন) রয়েছে ০.০৬ মি.গ্রা., ভিটামিন বি-২ (রাইবোফেবিন) রয়েছে ০.৪৫ মি.গ্রা., ভিটামিন-সি আছে ৬৩ মি.গ্রা. আরও রয়েছে খাদ্যশক্তি ৭৭ কিলোক্যালোরি যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।



এতোক্ষণ তো জানলাম, কচুশাকের পুষ্টি উপাদানের কথা।  এখন জেনে নেওয়া যাক এই পুষ্টি উপাদান গুলো আমাদের শরীরে কি কি উপকার করে থাকে –
১।  যারা রক্তশুণ্যতায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কচুশাক খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এক কথায় আবশ্যক বলা যায়।  কারণ এই কচুশাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে।
২।  কচুশাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা আমাদের খাদ্য হজম করতে সাহায্য করে।  এটি আমাদের কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
৩।  কচুশাকে থাকা ভিটামিন “এ” আমাদের রাতকানা রোগ ও অন্যান্য চোখের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে।  এটি আমাদের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।  এজন্য আমাদের প্রচুর পরিমাণে কচুশাক খাওয়া উচিত। 
৪।  কচুশাকে থাকা ভিটামিন “সি” আমাদের শরীরের বিভিন্ন ক্ষত সারাতে সাহায্য করে থাকে।
৫।  কচুশাকে থাকা আয়রণ ও ফোলেট আমাদের শরীরে রক্তের পরিমাণ বাড়ায় যার ফলে আমাদের শরীরে আক্সিজেনের সরবরাহ ঠিক থাকে।
৬।  কচুশাকে থাকা ভিটামিন “কে” আমাদের রক্তপাতের সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
৭।  কচুশাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ইত্যাদি যা আমাদের শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী পুষ্টি উপাদান।
৮।  কচুশাক আমাদের দাত ও হাড় গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে থাকে।  এছাড়া আমাদের হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। 
৯।  গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য কচুশাক খুবই উপকারী কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। 
১০।  কচুশাক আমাদের রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।  তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী। 
১১।  যারা নিয়মিত কচুশাক খান তাদের কোলন ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকে। 
১২।  এটি আমাদের দেশের দরিদ্র পরিবারে মানুষ গুলোর পুষ্টির চাহিদা সহজেই মেটাতে পারে।

এতোক্ষণ আমরা কচুশাকের অনেক পুষ্টি উপাদান ও তার উপকারিতা সম্পর্কে জানলাম।  আমাদের সকলের কচুশাক খাওয়া উচিত।  এটি অত্যন্ত সহজলভ্য একটি খাবার।  তবে এই কচুশাকে অক্সলেট নামক এক ধরণের উপাদানের উপস্থিতির কারণে খেতে গেলে অনেক সময় গলা চুলকাতে পারে, এরজন্য খাওয়ার সময় এর সাথে লেবুরস ব্যবহার করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।  তবে যাদের শরীরে অ্যালারজির সমস্যা আছে তাদের কচুশাক না খাওয়াই ভালো।

Post a Comment

0 Comments