বিগত
কয়েক বছর আমাদের দেশে ঘন ঘন বজ্রপাতের ফলে অনেক মানুষ মারা গেছে এবং অনেক ক্ষয়
ক্ষতি হয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো এবছরেও সময় আসতে না আসতেই ঝড়
এবং বৃষ্টির সাথে সাথে বজ্রপাতও শুরু হয়ে গেছে।
বজ্রপাতের
সময় নিচের বিষয় গুলো থেকে সাবধান থাকবেন –
১। উঁচু দালান বা পাকা ভবনের নিচে আশ্রয় নিন। বজ্রপাতের সময় কোনো ভাবেই খোলা স্থান বা উঁচু
স্থানে থাকা যাবে না। কারণ উঁচু স্থানে
বজ্রপাত বেশি হয়।
২। বড় এবং উঁচু গাছপালা ও বৈদ্যুতিক লাইনের উপরে
বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে, একারণে বজ্রপাতের সময় উঁচু গাছপালা এবং
বৈদ্যুতিক লাইন থেকে দূরে থাকবেন।
৩। খোলা স্থানে কোনো বিচ্ছিন্ন যাত্রী ছাউনি বা কোনো বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না। কারণ এসব স্থানে বজ্রপাতের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
৪। বজ্রপাতের সময় জানালার কাছে থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন আর ভিতরে থাকুন।
৫। বজ্রপাতের সময় টিউবয়েল, ধাতব কোনো পাইপ, জানালা বা সিঁড়ির রেলিং, জানালার রেলিং অথবা কোনো ধাতব বস্তু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।
৬। বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন, ল্যান্ড লাইন টেলিফোন স্পর্শ ও ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন। কারণ এগুলো স্পর্শ করেও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
৭। বজ্রপাতের সময় যদি গাড়ির ভিতরে থাকেন তাহলে সম্ভব হলে গাড়িটাকে নিয়ে কোনো কংক্রীটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিন এবং গাড়ির ভিতরের কোনো ধাতব জিনিস স্পর্শ করবেন না। এমনকি গাড়ির কাচেও হাত দেবেন না।
৮। বজ্রপাতের সময় যেকোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্পর্শ ও ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। টিভি, ফ্রিজ বন্ধ থাকলেও স্পর্শ করবেন না এবং প্রয়োজনে প্লাগ খুলে বিদ্যুৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলুন। এসময় ইলেকট্রোনিক্স কোনো কিছু ব্যবহার না করাই উত্তম।
৯। খোলা এবং উঁচু স্থানে যাবেন না। বড় কোনো খোলা মাঠে বা ধান, সবজি ক্ষেতে থাকবেন না, হতে পারে সেখানে আপনিই সবচেয়ে উঁচু এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী। আর খোলা মাঠে বজ্রপাতের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
১০। আমাদের মধ্যে অনেকেরই বৃষ্টির সময় বৃষ্টিতে ভিজতে অনেক পছন্দ করি। কিন্তু আপনি জানেন কি এটা কতোটা বিপজ্জনক ? বজ্রপাতের সময় এটা প্রাণঘাতি হয়ে উঠতে পারে।
১১। বজ্রপাতের সময় বৃষ্টিপাতের সময় ছাঁদে বা উঠোনে বা খোলা বারান্দায় থাকবেন না। ছাঁদে থাকলে দ্রুত সেখান থেকে নেমে পড়ুন।
১২। বজ্রপাতের সম্ভাবনা দেখা দিলে কোনো পুকুরে, জলাশয়ে বা কোনো জলাবদ্ধ স্থানে থাকবেন না কারণ পানি খুব ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী।
১৩। যদি বজ্রপাতের উপক্রম দেখা দেয় তাহলে কানে আঙ্গুল দিয়ে নিচু হয়ে বসে পড়ুন এবং চোখ বন্ধ রাখুন। কিন্তু কোনো ভাবেই মাটিতে শুয়ে পড়বেন না কারণ বজ্রপাতের সময় মাটিতে শুয়ে পড়লে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
১৪। বজ্রপাতের সময় ভেজা শরীরে থাকবেন না, ভেজা জুতো পরবেন না এবং খালি পায়ে থাকবেন না। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এসময় রবারের জুতো সবচেয়ে নিরাপদ কারণ এটা বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
১৫। আপনার উপর বা আপনার আশেপাশে বজ্রপাত হওয়ার আগ মুহূর্তে কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যেমন – বিদ্যুতের প্রভাবে আপনার শরীরের লোম ও মাথার চুল খাড়া হয়ে যেতে পারে, ত্বকে শিরশির অনুভূত হতে পারে অথবা বিদ্যুৎ অনুভব হতে পারে এবং আপনার আশেপাশের ধাবত দ্রব্য কাঁপতে পারে। এরকম পরিস্থিতে দ্রুত বজ্রপাত থেকে বাঁচার প্রস্তুতি নিন।
১৬। আপনার বাড়িকে বজ্রপাতের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখুন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। বাড়িতে আর্থিং সংযুক্ত রড স্থাপন করুন, এর জন্য দক্ষ কোনো ইঞ্জিনিয়ারের কাছ থেকে পরামর্শ নিন কারণ ভুল্ভাবে আর্থিং রড বজ্রপাতের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
১৭। বজ্রপাতের সময় আশেপাশের মানুষের খবর রাখুন আর যদি কেউ বজ্রপাতের কারণে আহত হয় তাহলে তাকে বিদ্যুতের শক পেয়ে শত হওয়া ব্যক্তির মতো করেই চিকিৎসা করতে হবে। এবং হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা দিন। এর জন্য আমাদের সবার প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নিয়ে রাখা উচিত। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
১৮। আর সবশেষে একটাই কথা বলবো, যেকোনো বিপদে পড়লে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন। আর বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঘন ঘন দোয়া পড়ুন। কারণ যতই সাবধানতাই অবলম্বন করুন না কেন বিপদ থেকে উদ্ধার ও বাঁচানোর মালিক একমাত্র তিনি। একমাত্র তিনিই পারেন আমাদেরকে সমস্ত বিপদাপদ থেকে রক্ষা করতে। তাই বিপদে পড়লে এই দোয়াটি অবশ্যই পড়বেন, “লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুংতুম মিনাজ জোয়ালিমিন”।
পোস্টটি
পড়ে আপনার ফেইসবুকের ও টুইটারের প্রোফাইলে শেয়ার করুন এবং সবাইকে এ বিষয়ে জানার
সুযোগ করে দিন।



0 Comments