ব্রেকাপের কষ্টকে করুন বাই বাই!

আমাদের সবার জীবনেই মুটামুটি প্রেম এসে থাকেকারো প্রেম বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় আবার কারো বা ২ দিনেই শেষ হয়ে যায়। সেটা নির্ভর করে আমাদের চাহিদা আর মন মানষিকতার উপর। আমাদের একেক জনের মন-মানষিকতা একেক রকম, তাই আমাদের চাওয়া-পাওয়া আর ভালো লাগা গুলোও একেক রকম। আজকাল কার প্রেম গুলো কেমন একটা সস্তা হয়ে গেছে। যেন চাইলেই পাওয়া যায় এরকম একটা ভাব। প্রায় অধিকাংশ ছেলেমেয়ের কাছেই প্রেম হয়ে গেছে একটা ফ্যাশন। এটা এমন একটা বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে যেন একটা মানুষকে দেখে ভালো লাগলেই প্রপোজ করতে হবে, তারপর রাজি হলে প্রেম হলো নাহলে গেলো। তারপর যদি প্রেম হয়ে যায় তখন কিছুদিন অনেক সুন্দর কিছু মুহূর্ত, এক আরেকজনকে অনেক অনেক স্বপ্ন দেখানো ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপর আস্তে আস্তে সময় গড়ানোর সাথে সাথে নিজের আসল রূপ দেখানো, এরপর হুট করেই একদিন সব শেষ। একজন প্রতারণা করে আর অপরজন প্রতারিত হয় অর্থাৎ ব্রেকাপ। এই মানুষগুলো তো চলে যায় কিন্তু রেখে যায় ভুলতে না পারার মতো কিছু স্মৃতি, যা একটা মানুষকে শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। আমার আপনার মতো এমন অনেকেই এই পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছি আর এখনো প্রতিদিন অনেকেই এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। এই সময় গুলোতে মন এতোটাই অশান্ত হয়ে পড়ে যেন মানুষ তার স্বাভাবিক জ্ঞানও হারিয়ে ফেলে। হ্যাঁ, এটা ঠিক একটা মানুষকে এতোটা সহজে ভুলে যাওয়া যায় না কিন্তু তাই বলে তার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে বসে থাকা যায় না সারাজীবন। জীবন এতোটা সহজ নয়। যে আপনাকে চায় না তার কাছে আপনি কতবার যাবেন? একবার, দুইবার, তিনবার..নাহয় দশবার গেলেন, তারপরেও যদি সে আপনাকে ফিরিয়ে দেয় তাহলে আমি বলবো আপনি ফিরে আসুন আপনার জায়গাতে। ভাববেন না যে, আপনি হেরে গেলেন, এটা আপনার সেলফ রেসপেক্ট বা আত্মসম্মান। নিজেকে কেনো এতোটা ছোট করবেন তার কাছে। একটা কথা মনে রাখবেন, সৃষ্টিকর্তা যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। 

কথা না বাড়িয়ে চলুন দেখা যাক, কিভাবে আপনি আপনার ব্রেকাপের কষ্টগুলো থেকে মুক্তি পেতে পারেনঃ-
  • সর্বপ্রথম তার ছবি, তার দেওয়া SMS গুলো Delete করে দিন। তার দেওয়া উপহার গুলোকে ছুড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিন। যদিও একটু কষ্ট হবে তবুও এটাই আপনার জন্য ভালো হবে।    
  • তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিন। ভুল করেও তার সাথে আর যোগাযোগ করবেন না। তার কন্টাক্ট নম্বর ডিলিট করে দিন, ফেসবুক থেকেও ব্লক করে দিন। পারলে আপনার কন্টাক্ট নম্বর পরিবর্তন করে ফেলুন।
  • যথাসম্ভব যেকোনো কাজের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখুন। সব সময় চেষ্টা করুন নিজেকে কোনো না কোনও কাজে ব্যস্ত রাখতে। যে কাজ করবেন চেষ্টা করবেন সেকাজের মধ্যে পরিপূর্ণ রূপে ডুবে যেতে।  
  •  কখনো পুরনো স্মৃতি হাতড়াতে যাবেন না। এতে করে আপনার কষ্টটা বাড়বে বৈ কমবে না। যখন তার স্মৃতি মনে আসবে তখন আপনার মনোযোগ অন্যকিছুর উপর দিতে চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, আপনি আপনার স্মৃতিগুলোকে যতবেশি প্রশ্রয় দেবেন ততোবেশি কষ্ট পাবেন। তাই একমুহূর্তের জন্যেও কখনো আপনার স্মৃতি গুলোকে মনে প্রশ্রয় দেবেন না।
  • যখন তার সাথে কাটানো সুখের স্মৃতি মনে পড়বে তখনই মনে করুন তার দেওয়া কষ্টগুলোকে, অবহেলাগুলোকে। মনে করে দেখুন, আপনার তিল তিল করে গড়ে তোলা ভালোবাসাকে সে কিভাবে তুচ্ছ করেছিল, কিভাবে আপনাকে কষ্ট দিয়েছিলো। এতে করে সে আপনার মন থেকে তাড়াতাড়ি সরে পড়বে।
  •  কখনো বিরহের গান শুনবেন না, এটা আপনার মনে পুরোনো স্মৃতি গুলোকে জাগিয়ে তুলবে। তাই সবসময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করবেন। আর ফেসবুকে ছ্যাকা খাওয়া পোস্ট করা থেকে বিরত রাখুন নিজেকে, এটা আপনার Identity নষ্ট করে।
  • মন বেশি খারাপ থাকলে Funny Video দেখুন। এর জন্য আপনি মি. বিন কিংবা কার্টুন, টম এন্ড জেরি,  গোপাল ভাঁড় দেখতে পারেন। হয়তো মনের অজান্তেই হেসে ফেলবেন।
  • খুব বেশি মন খারাপ হলে হুমায়ূন আহমেদের কিছু উপন্যাস পড়তে পারেন। যেমন- হিমু, শুভ্র, মিসির আলি আরো অন্যান্য কিছু পড়তে পারেন যেটা আপনার ভালো লাগে। গল্পের মধ্যে ডুবে যান। কাহিনীগুলোকে নিজের মনে স্থাপন করে নিন।
  • আপনার ভালো লাগা কাজ গুলো করুন। কিন্তু খবরদার, যতই মন খারাপ হোক, কষ্ট লাগুক, ভুল করেও তার সাথে আবার কথা বলতে যাবেন না। নিজের এই দুর্বলতাকে প্রশ্রয় দেবেন না।
  • আপনি যদি মেয়ে হয়ে থাকেন, আর আপনার যদি রান্না করতে ভালো লাগে তাহলে আপনি নতুন নতুন রান্না শিখতে পারেন। এতে করে আপনার ব্যস্ত থাকাও হলো আবার নতুন কিছু শেখাও হলো।
যাইহোক, সবশেষে একটা কথায় বলবো, এটা আমার নিজের জীবনে প্রয়োগ করেছি এবং সফল হয়েছি। তাই আপনারা এগুলো প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। আশা করি এগুলো প্রয়োগ করে আপনিও সফল হবেন।

Post a Comment

1 Comments